সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইত্যাদি

বসেছে বউ মেলা, সঙ্গী খুঁজতে এসেছেন তরুণ-তরুণীরা

নিজেদের আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তাঁরা দৃষ্টি কাড়তে চান পরস্পরের।

স্বদেশ বানী ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯-১০-২০২৬, ০৪:৪৫ PM
০ বার পঠিত
বসেছে বউ মেলা, সঙ্গী খুঁজতে এসেছেন তরুণ-তরুণীরা

দিনাজপুরে বীরগঞ্জে আজ শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা বা মিলনমেলা শুরু হয়েছে। উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় জীবনসঙ্গীর দেখা পেতে আশপাশসহ দূর-দূরান্তের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা এই মেলায় ঘুরতে আসেন। নিজেদের আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তাঁরা দৃষ্টি কাড়তে চান পরস্পরের।

স্থানীয় লোকজনের কাছে এই মেলা বউ মেলা নামে পরিচিত। সময়ের পরিবর্তনে তা এখন মিলনমেলা নামে পরিচিত হচ্ছে। প্রায় ২০০ বছর ধরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরের দিন জমে ওঠে ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা কেউ কাউকে পছন্দ করলে প্রথমে আলাপচারিতা করেন। তারপর অভিভাবকদের জানান তাঁরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেজে ওঠে বিয়ের বাদ্য।

মেলা উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠসহ পুরো গোলাপগঞ্জ বাজার এলাকায় লোকজনের ভিড়। মেলায় নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। সেখানে রয়েছে জিলাপি, নিমকি, পিঠা, ফুচকা, চটপটিসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকান। এ ছাড়া আছে মেয়েদের অলংকারের, শিশুদের খেলনা সামগ্রী, গৃহস্থালির নানা সরঞ্জাম, তৈজসপত্র, মাটির তৈরি জিনিসপত্রের পসরা। কেবল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীই কেবল নন, এখন সব জাতি-ধর্মের মানুষই এই মেলায় ঘুরতে আসেন। তাঁরাও মেলার পসরা কেনাকাটা করেন, উপভোগ করেন আনন্দ আয়োজন।

মেলা উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় ৬ নম্বর নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও ১০ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং বীরগঞ্জ আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির যৌথ আয়োজনে স্কুলে মাঠে নাচ-গান ও আলোচনা সভা হয়।

আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির নেতা জোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি, বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলাম মনজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক রবি মার্ডি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক মনোজ কুমার রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা ঢোল, মন্দিরা, কাঁসর, কাড়া, হারমোনিয়ামের তালে নাচ পরিবেশনের মাধ্যমে অতিথিদের স্বাগত জানান।

চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস বলেন, আগে মেলায় তরুণ-তরুণীরা পছন্দের মানুষ খুঁজে পেলে পরিবারের কাছে জানাতেন। পরের বছর মেলায় তাঁদের নাম-পরিচয় তুলে ধরে বিয়ের আয়োজন করা হতো। এখনো অনেকেই হয়তো মেলায় ছেলে-মেয়ের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেলে বিয়ে দেন। তবে আর বিয়েশাদির ব্যাপারগুলো আর আগের মতো নেই। এরপরও মেলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন আয়োজকেরা।

আদিবাসী নেতা জোসেফ হেমরম জানান, মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। দিনাজপুর ছাড়া পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা থেকেও অনেক মানুষ মেলায় আসেন।  

লিংক কপি হয়েছে