বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬

তদন্তধীন মামলা প্রত্যাহার নিয়ে তানোরে রাজনীতির মাঠে নতুন রুপে উত্তাপ

NewsPaper

তানোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ

তদন্তধীন মামলা প্রত্যাহার নিয়ে তানোরে রাজনীতির মাঠে নতুন রুপে উত্তাপ

রাজশাহীর তানোরে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে রাজনীতি তে নতুন ভাবে উত্তাপ ছড়াচ্ছে জামায়াত। মামলায় ২ নম্বর আসামী করা হয় ওয়ার্ড জামায়াতের নেতা আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন কে। তার বাড়ি কুঠিপাড়া গ্রামে। মুল আসামী হাসান আলী। তার বাড়িও কুঠিপাড়া গ্রামে। সে জালালের ভাতিজা। তার জবানবন্দিতে জালালকে আসামী করা হয় বলে এজহারে বাদির দাবি। জালালকে আসামী করার কারনে কুঠিপাড়া গ্রামবাসী ও তানোরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে গত শনিবার বিকেলের দিকে জামায়াত নেতারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনের নেতা আব্দুল কাদির, উপজেলা জামায়াতের শ্রমিক নেতা কাজী আফজাল হোসেন, জালালের ছোট ভাই সাবেক শিবির নেতা ইসাহাক আলী,  হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা দর্শনাথ। সভা পরিচালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি জুয়েল রানা। জামায়াতের এমন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার বক্তব্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। রাজনীতির মাঠে দেখা দিয়েছে নতুন ভাবে উত্তাপ। 

বক্তারা হুমকি দিয়ে বলেন, জালালকে প্রতিহিংসা ভাবে মামলার আসামী করা হয়েছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জালাল একজন সুনাম ধন্য ব্যবসায়ী। 

 স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনে জামায়াতের এমপি ইউএনও কে গীতা পাঠ না করতে নির্দেশনা দেন। যা ইউএনও নিজেই শিকার করেন। এঘটনাকে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও হলুদ সাংবাদিকতা বলে হুমকিমুলক বক্তব্য দেয়া হয়। জামায়াত নেতাদের এমন বক্তব্যে সাংবাদিকরা চরমভাবে মর্মাহত। কারন দেশের শীর্ষ মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। তাহলে কি দেশে শুধু জামায়াত বা তাদের মিডিয়ায় সৎ। বাকিরা সবাই দালাল ও হলুদ। আসলে তারা যে উগ্রবাদী আচরণ করছে এবং তাদের আসল রুপ দেশবাসী বুঝে গেছে। একারনে তাদের বিরুদ্ধে কিছু হলে তারা সেটা সহ্য করতে পারেনা।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের গোল্লাপাড়া বাজারস্থ ডিস টিভি নেটওয়ার্কে তালা ভেঙে কট্রোলরুমসহ যাবতীয় সবকিছু ভেঙে তছনছ করে ফেলে কুঠিপাড়া গ্রামের হাসান নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে ধোলাই দিলে হাসান সাফ জানায় জালাল আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এসব ভাংচুর করতে বলেছে। হাসানের এমন কথার ভিডিও আছে অনেকের কাছে। ভাংচুরের ঘটনায় হাসানের কাছে দেশীয় অস্ত্র পায় পুলিশ প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়। ঈদের দিন তানোরে প্রথমবারের মত এমন ভয়াবহ হামলায় হতবাক হয়ে পড়ে আপামর জনতা। বন্ধ হয়ে যায় ডিস সম্প্রচার ও ওয়াইফাই। তিন দিন পর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অল্প পরিসরে সংযোগ চালু হয়। ভাংচুরের পর ডিস ব্যবসার ম্যানেজার মাসুম বাদি হয়ে হাসান ও জালাল এবং অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের নামে মামলা করেন। মামলায় ক্ষতির পরিমাণ দেয়া হয় ৫৮ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, মিজান বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সে বিগত ২০১৬ সালের তানোর পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মত মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের পর থেকে মিজান ডিসের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় তার নামে একাধিক মামলা হয়। কয়েকবার জেলে যেতে হয়। এমনকি শপথ নিতে গিয়েও কারাবন্দী হতে হয়। শুধু তাই না ৭০ কেজির চালের মামলা দিয়েও পৌর ভবন থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ঠিক মত বাড়িতে থাকতে পারতনা। এমনকি ঈদও বাড়িতে করতে পারত না। এতকিছুর পর আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন মিজান। ওই সময় আ”লীগের মাথা ব্যাথার কারন ছিল মিজান। অথচ বিগত আ”লীগ সরকারের সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটা ইট পড়ল না। আর তার দল ক্ষমতায়, আর এসময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে তছনছ করা হল। আবার প্রতিবাদ সভায় জালালের ভাই সাবেক শিবির নেতা ইসাহাক বললেন, মিজান নাকি নিজেই হাসানকে টাকা দিয়ে নিজের জনপ্রিয় ্তা বাড়াতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে। এটাতো পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। যে হাসান ভাংচুর করেছে সেই হাসান জালালের নাম বলেছে। জালালের নাম বলেছে বলেই তার নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। হাসান অন্য কারো নাম বললে তার নামে মামলা হত। আবার কুঠিপাড়া গ্রামের ভোটার আগে বিএনপির ছিল, গত নির্বাচনে সবাই জামাতের ভোটার হয়ে গেছে। ভালো কথা হোক জামাতের। মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। ভোট ঘুরাতেও নাকি মিজান নিজেই হাসানকে দিয়ে ভাংচুর করিয়ে নিয়েছেন। আসলে তারা এধরনের রাজনীতি করে থাকেন বলেই এসব কথা বলতে পারছেন। বিএনপি তো এধরনের নোংরা গুপ্ত রাজনীতি করেনা। এমপি পেয়ে যদি মনে করে দেশ পেয়ে গেছি তাহলে কি বলার আছে।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে থানা মোড় থেকে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার ব্যানার সরিয়ে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার লাগানো হয়। এব্যানার লাগানো নিয়ে পৌর জামাতের আমীর ইসলাহিয়া মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মুকসেদ আলী বাদি হয়ে ইউএনও এবং থানায় অভিযোগ দেয়। এসব নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলে উত্তেজনা। রমজান মাসে ব্যানার নিয়ে এসব হল। আর ঈদের দিনে মিজানের ডিস টিভি নেটওয়ার্ক ভাংচুর করা হল। জবানবন্দির ভিত্তিতে জালাল হল আসামী। আর তার নাম প্রত্যাহার করার জন্য জামায়াত গ্রামের বয়ানারে করছে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। তাহলে জামায়াত কি বোঝাতে চাচ্ছে। তারা কি নিজেরা নিজেদের ঘাড়ে দায় নিতে চায়। যদি না চাই তাহলে কেন এমন অযৌক্তিক প্রতিবাদ সভা। মিজান যদি প্রতিহিংসা ভাবে জালালের নাম দিগ্ত তাহলে তো তার ভাইসহ অনেক স্বজন ছিল তাদের নামও তো দিতে পারত। ভাংচুর কারী যার জালালের নাম বলেছে এজন্য তার নামে মামলা হয়েছে। এমনকি হাসানকে হাসপাতালে কারা দেখতে গেছিল সেটাও তো অনেকের জানা। কিন্তু তাদের নাম তো দেয়া হয়নি। তাহলে জামায়াতের কেন এত লাগছে কেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, ডিস টিভি নেটওয়ার্ক ভাংচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।