চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর ছেলে রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এর চেয়ারম্যান এবং সিভিল জজ মো. মেহেদী হাসান এই তলব আদেশ জারি করেন।
আদেশে বলা হয়, কমিটি বরাবর মোহাম্মদ নজরুলের ইসলামের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে কেন নির্বাচন কমিশন বরাবর সুপারিশ প্রদান করা হবে না, তা আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। এই কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ জারি করে প্রতিবেদন জমাদানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফিকে আগামী ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে যে কেন এই বেআইনি কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে শাস্তিমূলক সুপারিশ করা হবে না। একইসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে এ বিষয়ে শোকজ নোটিশ জারি করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কারণ কমিটির মতে, এই কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এবং নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫-এর বিধি ৩, ১৫ ও ২৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা এলাকায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নামোশংকরবাটি এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশীদ ও তার স্ত্রী সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার উপস্থিতিতে জামায়াত নেতা আজিজুল হক নূরের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফি ওই নেতার কলার ধরে মারধর করেন এবং তাকে শূন্যে তুলে ধরেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন রাতেই জেলা শহরের নতুনহাট মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী। তাদের দাবি, প্রচার মিছিলের সময় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটার অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে।