বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

ভাঙ্গায় চলছে অবরোধ: ট্রেন আটকে নামিয়ে দেওয়া হলো যাত্রীদের

NewsPaper

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

ভাঙ্গায় চলছে অবরোধ: ট্রেন আটকে নামিয়ে দেওয়া হলো যাত্রীদের

টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচী পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। 

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তৃতীয় দফায় চলছে অবরোধ কর্মসূচি। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুটি মহাসড়ক ও রেলপথের অন্তত ১০টি এলাকায় অবরোধ করছেন বিক্ষুব্ধরা। এদিকে রাতেই এই আন্দোলনের এক সমন্বয়ককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)

আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু করেছেন বিক্ষুব্ধরা। সকাল ১০টায় পুখুরিয়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়রা সড়কে গাছের গুঁড়ি, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ ছাড়া সকাল ৯টায় রাজবাড়ী-ফরিদপুর-ঢাকা রেলপথের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি রেলক্রসিংয়ে নকশিকাঁথা ট্রেন আটকিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় যাত্রীদেরও নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রী।

ঢাকায় মেয়ের বাসায় পেঁয়াজ নিয়ে ট্রেনে যাচ্ছিলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাচ্চু মাতুব্বর (৫২) নামে এক ব্যক্তি। পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, মাথায় পেঁয়াজের বস্তা নিয়ে হাঁটছেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, `বাস না পাইয়্যা ট্রেনে করে ঢাকায় মাইয়্যাটার বাসায় যাবার গেছিলাম। ওই জায়গ্যা (হামিরদি রেলক্রসিং) যাওয়ার পর রাস্তার ওপর দেহি আগুন জ্বলতেছে, অনেক মানুষ ট্রেনের সামনে দাড়ায় পড়ছে। তহন ট্রেন দাড়ায় পড়ে, আমাদের নামায় দিছে।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা রেলস্টেশন কর্মকর্তা সাকিবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, `রাজবাড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল নকশিকাঁথা। ট্রেনটি আটকে দেওয়ায় ভাঙ্গা জংশনে ঢাকা থেকে আসা রাজবাড়ীগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে আছে। এ ছাড়া খুলনার ট্রেনটি (জাহানাবাদ এক্সপ্রেস) অবরোধ করার আগেই ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে।’

ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ায় মাথা পেঁয়াজের বোঝা নিয়ে হাঁটছেন সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাচ্চু মাতুব্বর।


ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ায় মাথা পেঁয়াজের বোঝা নিয়ে হাঁটছেন সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাচ্চু মাতুব্বর। 

হেঁটে আসতে দেখা যায় মনির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তিকে। তাঁর বাড়ি রংপুরে, মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি রংপুরে যাব, ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে আসলাম, কোনো গাড়ি পেলাম না। মানুষরে কষ্ট দিয়ে উনাদের কিসের আন্দোলন আমি জানি না।’ এভাবেই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে আক্ষেপ জানান অনেকে।

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে ‘আলগী ও হামিরদি ইউনিয়ন এবং ভাঙ্গা উপজেলার সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনদিনের সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেন আলগী ইউপি চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিয়া। এরপরে রাতেই নিজ বাসা থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা তাঁকে আটক করে। তিনি এই আন্দোলনের সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এর সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন জানান, রাতে ডিবি পুলিশ আটক করে ফরিদপুরে নিয়ে গিয়েছে। থানায় এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।

৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ৪৬টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করেন। গেজেট অনুযায়ী ফরিদপুর-৪-এর অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদি ইউনিয়ন পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) সংসদীয় আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই মূলত আন্দোলন চলছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিককরণে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। আমরা বিক্ষুব্ধদের সাথে কথা বলে যাচ্ছি।’