বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

আন্তর্জাতিক কিছু মহল চায় না নির্বাচন হোক, সামনের কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

মো: সিহাব উর রহমান নিলয়

মো: সিহাব উর রহমান নিলয়

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

Bangla Today News

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এখন এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কিছু মহল নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে এবং এজন্য সামনের কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হোক অবাধ ও শান্তিপূর্ণ—এমন নির্বাচন যা বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি। আমাদের লক্ষ্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “বছরের পর বছর ভোটার তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও তারা ভোট দিতে পারেনি। এবার আমরা বিশেষভাবে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে চাই এবং তাদের অংশগ্রহণ উদযাপন করতে চাই। ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে জানাতে আমরা ব্যাপক প্রচারণা চালাব।”

ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, “আন্তর্জাতিক কিছু মহল নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু শক্তি রয়েছে যারা চায় না নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরা জানি না তারা কার হয়ে কাজ করছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হচ্ছে, যার সুবিধাভোগী দেশের ভিতরে ও বাইরে রয়েছে। তারা সুসংগঠিত—এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়। সামনে কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “প্রত্যেকবার আপনারা এলে ভুলে যাওয়া বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত আপনারাই জনগণের কণ্ঠস্বর।”

বৈঠকে প্রতিনিধি দলকে তিনি বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

অর্থ পাচার প্রতিরোধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। আমি আশা করি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়ে আওয়াজ তুলবে, যেন কোনো ব্যাংক এমন অর্থ লুকিয়ে রাখতে না পারে। এটি সত্যিকার অর্থেই জনগণের অর্থ।”