বাংলাদেশ, রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

থাইল্যান্ডে সিকদার পরিবারের ৭ কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ

NewsPaper

স্বদেশ বানী ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ

Bangla Today News

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের তিন ছেলে-মেয়ের থাইল্যান্ডে মালিকানাধীন সাত কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন ভাই বোন হলেন—সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার, তাঁর ভাই রিক হক সিকদার এবং বোন পারভীন হক সিকদার।

আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

দুদকের সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান এ আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের এসব কোম্পানির বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং সাতটি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে— কেওআই রেস্টুরেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, সিকদার গ্রুপ লিমিটেডের রিসোর্ট, সিকদার হোল্ডিং লিমিটেড, আর অ্যান্ড আর রেস্টুরেন্ট, জিরানা কোম্পানি লিমিটেড, যে আর আর্কিটেক্ট ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি ও সিকদার অ্যান্ড গ্যারেট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৩৫ কোটি ৩০ লাখ থাই বাথ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট মূল্য আসে ১৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার, তাঁর পরিবার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ তছরুপ, ঘুষ গ্রহণ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাত সদস্যের একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক।

তদন্ত চলাকালে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা বিদেশে অবস্থিত তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি স্বার্থে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এসব সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা জরুরি। এ কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ বিধি অনুযায়ী থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সিকদার পরিবারের মালিকানাধীন একাধিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ ও ক্রোক করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার, তাঁর মা মনোয়ারা সিকদারসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ২০৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব হিসাবে ১ কোটি ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৬ টাকা রয়েছে। গত ১১ মার্চ রন হক সিকদার, তাঁর মা মনোয়ারা সিকদারসহ তাঁদের পরিবারের ১৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সিকদার গ্রুপের রন হক সিকদার, তাঁর মা মনোয়ারা সিকদারসহ তাঁদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। মোট ১৫টি ভবন ও ফ্লোর ক্রোকে আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত ৯ মার্চ রন হক সিকদার, তাঁর মা মনোয়ারা সিকদারসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ৪২টি বিও হিসাব (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। গত ২১ এপ্রিল পূর্বাচলে ১০০ একর জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।