সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের খবর

তানোরে মেয়াদ বৃদ্ধি করেও তিন বছরে হয়নি ব্রীজ নির্মাণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

সারোয়ার হোসেন, তানোর
প্রকাশ: ১৯-১০-২০২৬, ১০:১৫ AM
০ বার পঠিত
তানোরে মেয়াদ বৃদ্ধি করেও তিন বছরে হয়নি ব্রীজ নির্মাণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

রাজশাহীর তানোরে এক বছরে ব্রীজ নির্মানের কথা থাকলেও নানা অজুহাতে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি। মুল রাস্তার ব্রীজ নির্মান না হওয়ার কারনে পার্শ্ববর্তী আরেকটি চলাচলের ব্রীজ ও রাস্তা  চরম ঝুঁকিতে পড়ে রয়েছে। উপজেলা গেট থেকে চৌবাড়িয়া রাস্তার চাপড়া ব্রীজে ঘটে রয়েছে এমন ঘটনা। দীর্ঘ তিন বছর ফেলে রাখার কারনে মুল সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের উদাসীনতায় হচ্ছে না কাজ। অথচ একই সাথেই টেন্ডার হওয়া লবিয়তলা ব্রীজের নির্মান কাজ শেষ, উদ্বোধনের পর দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। শুধু যানবাহন না লবিয়তলা ব্রীজ এখন বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছেন। অথচ চাপড়া ব্রীজের কোন দৃশ্যমান কাজতো হয়নি উল্টো আরো দেড় বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্রীজ নির্মান না হওয়ার কারনে সড়ক ও পুরাতন ব্রীজটি চরম ঝুঁকিতে পড়ে রয়েছে। ফলে উপায় না পেয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

জানা গেছে, বিগত আ”লীগ সরকার সময় ২০২৩ সালের ২৫ মে   ব্রীজের কার্যাদেশ পায় জামালপুর জেলার চন্দ্রা হাট এলাকার এমসিই ও এমএই জেভি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২৭ দশমিক ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রীজটি ৩৭১ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩০ মে মাসের মধ্যে  নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার ও এলজিইডির অবহেলার কারনে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ব্রীজটি নির্মান হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর উপজেলা পরিষদের গেট থেকে চৌবাড়িয়া রাস্তার পৌর এলাকার চাপড়া বাজার পার হয়ে দুটি ব্রীজ। পুরাতন ব্রীজের পূর্ব দিকে নতুন ব্রীজের নির্মাণ কাজ চলমান। পুরাতন ব্রীজের ও রাস্তার পূর্ব দিকের দুই পারে ভয়ংকর গর্ত হয়ে আছে। নতুন ব্রীজের দক্ষিণ ও উত্তর দিকে দুটি পিলার তোলা আছে। মাঝে আরো দুটি পিলারে সাটারিং মারা আছে দীর্ঘ প্রায় বছর ধরে। সাটারিংগুলো নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বাঁশ ও কাঠের দেয়া আছে। অথচ এখানে জ্যাক পাইপ ও লোহার পাইপ ব্যবহারের নিয়ম। সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে দুই তিনজন মিস্ত্রি কাজ করছেন। বর্তমানে নির্মাণ কৃত ব্রীজের নীচে পানি। বৃষ্টির পানি হলেই ব্রীজের নীচ দিয়ে স্রোত যায়। আবার বৃষ্টির পানির মধ্যে পিলারে ছোট ঢালায়ের কাজ করতেও দেখা যায়। কাজ করা এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় শেষ হবে কবে এবং এতদিন বন্ধ ছিল ঘটনা কি তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই বলতে পারবনা। ৫ জন কাজ করছিলাম। তিনজন চলে গেছে। এখন দুজন কাজ করছি। দেড় বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে। তাহলে বুঝে নেন তিন বছরে নির্মাণ হয়নি, আবার দেড় বছর মেয়দ বাড়ানো হচ্ছে। তবে ব্রীজ নির্মান কবে শেষ হবে বলতে পারব না। কিন্তু ব্রীজ নির্মান শেষ হওয়ার আগে রাস্তা শেষ হয়ে যাওয়র সম্ভাবনা রয়েছে । গর্তে বালুর বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যে কোন সময় চলন্ত গাড়ী গর্তে পড়ে যেতে পারে, নচেৎ রাস্তা বা ব্রীজ ভেঙে যেতে পারে। ভেকু মেশিনের দরকার পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসের লোকজন ও ঠিকাদার কে বলছি কোন গুরুত্ব নেই। 

স্থানীয়রা জানান, লবিয়তলা ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ। উদ্বোধন হয়েছে, দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। পুরাতন ও নতুন ব্রীজ দেখতে প্রতি নিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদন প্রেমিরা আসছেন। ওই ব্রীজ বা জায়গার নাম দেয়া হয়েছে ১৫০ ফিট। অথচ চাপড়া ব্রীজের দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি।

যান চালকরা জানান, দিনের দিন পুরাতন ব্রীজের পূর্ব দিকের দুপাশের গর্ত বেড়েই চলেছে। গর্তের কারনে সেখানে গাড়ী থামিয়ে সাবধানে পার হতে হয়। আবার একদিক থেকে একটা গাড়ী আসলে বিপরীত দিক থেকে কোন গাড়ী যেতে পারেনা। খুবই সরু ব্রীজ। কিন্তু নতুন ব্রীজ আর কত দিনে নির্মান হবে বলা কষ্টকর। এক বছরের কাজ তিন বছরেও শেষ হয় না। আবার মেয়াদ বাড়ায় দেড় বছর। আসলে এলজিইডি অফিস সরকার চালায় না, ঠিকাদারদের ইচ্ছায় চলে। ঠিকাদারদের কাছে চরমভাবে জিম্মি এলজিইডি অফিস। তাছাড়া এত দিনে কাজ হবে না কেন। মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হবে, না হয় তার কাজ বাতিল হয়ে নতুন ভাবে দরপত্র আহবান করা হবে। ঠিকাদারেরা অফিস পরিচালনা করলে তাদের কথামত চলতে হবে এটাই স্বাভাবিক।  শুস্ক মৌসুমে ব্রীজের কাজ করেনি। এখন বর্ষা মৌসুম ঢিলেঢালা ভাবে কাজ শুরু হয়েছে। 

এলজিইডির এক এসও জানান, ব্রীজ নির্মান কারী ঠিকাদার সুবিধা বাদি। তার ভিতরে ঠিকাদারি কাজের কোন দায়বদ্ধতা আছে৷ কিনা জানা নাই । এত তাগাদা দেয়া, নোটিশ করাসহ এমন কোন ব্যবস্থা নেই যে করা হয়নি তারপরও কাজ করে না। কাজ বাতিল করার ক্ষমতা উপজেলা পর্যায়ে এলজিইডি অফিসের নেই। এসব মুল অফিস করতে পারে।

উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, ব্রীজ নির্মান না হওয়ার কারনে চরম সমস্যায় আছি। প্রতি নিয়তই কেউ না কেউ ব্রীজের কথা বলছে। ঠিকাদারকে মৌখিক ও লিখিত ভাবে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। কয়েকদিন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। দেড় বছর মেয়াদ বাড়িয়েছে। আসা করছি এর মধ্যে কাজ শেষ হবে।


লিংক কপি হয়েছে