দুদিন আগেই পার্বতী রানীর (২১) সঙ্গে কথা হয়েছিল। চোখেমুখে উচ্ছেদের আতঙ্ক নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পোয়াতি। এখুন কার বাড়িত গিয়ে উঠব?’ দুদিন না যেতেই পাবর্তীর কোলজুড়ে এসেছে এক কন্যাশিশু।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজশাহীর মোল্লাপাড়ায় নিজের বাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন পার্বতী। শুক্রবার এখানেই খাসি জবাই করে খাইয়ে মহল্লার বাসিন্দাদের ‘বিদায়’ দেওয়ার কথা ছিল। এমন ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ভেস্তে যায় সে আয়োজন।
গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাড়ির সামনে পার্বতী রানীর সঙ্গে যখন কথা হয়, তখনই তাঁকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার প্রসব ব্যাথা ওঠে। স্বামী নিপেন বিশ্বাস নির্মাণশ্রমিক। হাতে টাকা নেই। তাই হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। ভরসা করেন মা-বড়মাদের ওপরেই। তাদের হাতেই ৯টা ২০ মিনিটে সন্তান প্রসব করেন পার্বতী।
কথা হয় নিপেন বিশ্বাসের সঙ্গে। জানালেন, এটি তার তৃতীয় সন্তান। এখনও নাম ঠিক করেননি। তবে যে বড়মা এসেছিলেন সন্তান প্রসব করাতে, তিনি নাম রেখে গেছেন ‘শুকমনি’।
এই মহল্লার ১৬টি পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর পরিবারকে উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার সকালেই ওই মহল্লায় যান আদিবাসী সংগঠনের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মীরা। শুকমনির আগমনের খবর মূহুর্তেই জানাজানি হয়ে যায়।
তারা বলতে থাকেন, ‘আজই পরিবারগুলোর উচ্ছেদের কথা ছিল। এমন ঘটনা যদি সত্যিই ঘটত, তাহলে পার্বতীর কপালে কি ছিল তা ভেবেই আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছি। এই মাটিতে শুকমনির নাড়ি পোঁতা হলো। এটিই যেন শুকমনির স্থায়ী আবাস থাকে। আমরা এটাই চাই।’
বিকেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই মহল্লায় যান। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কথা বলেন। মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিন রায়হান রবিন জানান, পাহাড়িয়াদের উচ্ছেদ চেষ্টার এই বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিতে এসেছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, দলের নেতাকর্মীরা যেন পাহাড়িয়াদের পাশে থাকেন।