আজকের তরুণ সমাজ এক ভিন্নধর্মী লাইফস্টাইলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্মের কাছে সময় মানে স্ক্রিন টাইম, আর বন্ধু মানে ভার্চুয়াল কানেকশন। কিন্তু এতে কি হারিয়ে যাচ্ছে বাস্তব জীবনের সাদামাটা সুখগুলো?
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে দৈনিক গড় স্ক্রিন টাইম ৭ ঘণ্টারও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় কাটে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন অ্যাপে। শারীরিক কর্মকাণ্ড, ঘুম এবং পারিবারিক সময়—সবকিছুতেই পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব।
ঢাকার গুলশান এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা নাজিফ বলেন,
"আমরা অনেক কিছু জানি, কিন্তু অনেক কিছু বুঝি না। সারাদিন কাজ করি, অনলাইনে থাকি, কিন্তু নিজের জন্য কোনো সময়ই থাকে না।"
স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের ব্যাঘাত
নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই তিনটি বিষয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার মূল ভিত্তি। অথচ বর্তমান ব্যস্ত জীবনে এই অভ্যাসগুলো দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। ফাস্ট ফুড ও ক্যাফেইন-নির্ভর খাদ্যাভ্যাসে বাড়ছে ওজন, কমছে মনোযোগ।
ডায়েটিশিয়ান সুমনা রহমান বলেন,
"আজকের তরুণরা শরীরের যত্ন নেয়ার চেয়ে চেহারার দিকে বেশি মনোযোগী। কিন্তু ভেতরটা সুস্থ না থাকলে বাইরের যত সাজই থাকুক, মানসিক চাপ পেছন থেকে গিলে খাবে।"
মেন্টাল হেলথ: নিঃসঙ্গতা ও উদ্বেগ বাড়ছে
যেখানে ফলোয়ার সংখ্যা হাজার হাজার, সেখানেও অনেকেই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে ভয় বা লজ্জা পান এখনো অনেকেই। অথচ লাইফস্টাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানসিক সুস্থতা।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাহিদা আফরোজ বলেন,
"মাথার ভেতরের চাপ যদি কাউকে বলা না যায়, তাহলে তা একসময় বিস্ফোরণ ঘটায়। বন্ধুত্ব, পরিবার ও প্রকৃতির সংস্পর্শ এই চাপ কমাতে পারে।"
সামঞ্জস্যই হচ্ছে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি
তরুণদের লাইফস্টাইলে ভারসাম্য আনতে প্রয়োজন প্রযুক্তি ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা টানা। আত্মসচেতনতা, সময় ব্যবস্থাপনা, ও মানসিক যত্ন—এই তিনটি দিকেই এখন নজর দেওয়া জরুরি।
লাইফস্টাইল মানে কেবল সাজ-পোশাক নয়, বরং এটি একটি চিন্তাধারা—যেখানে নিজের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে জীবনযাপনই সবচেয়ে জরুরি।