সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র, মুম্বাই-পুনেতে আটক শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯-১০-২০২৬, ০৩:১৯ PM
০ বার পঠিত
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র, মুম্বাই-পুনেতে আটক শতাধিক

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ জোরদার হয়েছে। রোববার মুম্বাই ও পুনেসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলনে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা আদিত্য ঠাকরে ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার নেতা অমিত ঠাকরে অংশ নেন।

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকায় রোববার বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। সেখানে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। আদিত্য ঠাকরে ও অমিত ঠাকরে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শিবসেনা ভবনের কাছে একটি পুলিশ ভ্যানে উঠে অমিত ঠাকরে ঘোষণা দেন, সোমবার থেকে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। আদিত্য ঠাকরে পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকা থেকে অধিকারকর্মী অঞ্জলি দামানিয়াসহ কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, পুনেতে এসআইআর বাতিল ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে ককরোচ জনতা পার্টির ৮৫ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গোয়ায় ‘এনাফ ইজ এনাফ’ আন্দোলনের সমর্থনে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে কাউন্সিলর জ্যাক সুখিজাও ছিলেন। পরে হাইকোর্টে দায়ের করা হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানি শেষে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

হায়দরাবাদের ধরনা চকে প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে সম্প্রতি ভোপাল থেকে আটক হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির তেলেঙ্গানা শাখার সদস্য এম রঙ্গা সাই রেড্ডি ও রাজেশ কোরাপাকাও ছিলেন।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও সিপিএম পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তৃণমূলের সংসদ সদস্য সৌগত রায় বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে তার আগে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কেরালায় বিধানসভায় এসআইআরের কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বহাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে একটি প্রস্তাব তোলার কথা রয়েছে। এদিকে বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে কিছু ভোটার বাদ পড়েছেন। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য স্বাভাবিক এবং যেসব ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স


লিংক কপি হয়েছে