বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

তানোরে বিএনপি নেতার নির্দেশে স্কুলে তালা, বারান্দায় ক্লাশ

উঠেনি জাতীয় পতাকা
NewsPaper

তানোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ

তানোরে বিএনপি নেতার নির্দেশে স্কুলে তালা, বারান্দায় ক্লাশ

রাজশাহীর তানোরে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাস্টার ও মুজিবর রহমানের নির্দেশে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির পিপড়া কালনা বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত (১১ অক্টোবর) শনিবার রাতে  তালা মারার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মজিবুর রহমান কে বিবাদী করে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট গত ১৩ অক্টোবর সোমবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দিলেও রহস্য জনক কারনে শিক্ষা অফিসার কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানে তালা দেয়ার কারনে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে ফেরত যাচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় পাঠদান করাতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষকরা। এঘটনায় পিপড়া কালনা গ্রামসহ আসপাশের জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলেও মনে করছেন জনসাধারণ। 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির দরগাডাঙ্গা বাজার হতে পূর্ব দিকে পিঁপড়া কালনা গ্রাম। গ্রামের মাটির রাস্তার পশ্চিম দিকে মাঠ। মাঠের উত্তরে টিন দিয়ে চারটি ঘর করা আছে। চারটি ঘরেই তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। বারান্দায় আট দশজন মত শিক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছিল। সামনে পতাকা লাগানো বাঁশ। বাঁশে সুতো ঝুললেও ছিলনা পতাকা।

শিক্ষকরা জানান, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুলটি। কয়েকবার ঝড়ে পড়ে যায়। গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় পুনরায় নির্মাণ করা হয়। বে সরকারি হলেও স্কুল টি ভালো ভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ মজিবুর ও বিএনপি নেতা হযরত মাস্টার স্কুলের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চায়। তাদের কে ফটোকপি দিলেও তারা মূল কাগজের জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে। কোন ধরনের বেতন ভাতা ছাড়াই ২৩ বছর ধরে পাঠদান পরিচালনা করে আসছি। স্কুল সরকারি করন বা শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথ্যা নেই। তারা যদি এতই দয়ালু হত তাহলে স্কুলটি সরকারি করনের ব্যবস্থা করুক। সেটি না করে প্রতিষ্ঠা কালীন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন ভাবে নিয়োগ দিতে চাই। অথচ যিনি স্কুল করার জন্য এক বিঘা জমি দান করলেন তার এসব নিয়ে মাথা ব্যাথ্যা নেই। মজিবুর এই স্কুলের সভাপতি ছিলেন। আ”লীগ সরকার পতনের পর থেকে স্কুল ও জায়গা দখল নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। এখন স্কুল তালা দেয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা তেমন ভাবে আসছে না। তারা গড়তে জানেনা ভাঙতে যানে। হযরত মাস্টার এধরনের কাজ করবে ভাবাই যায় না। তিনি নাকি বিএনপির বড় নেতা, আগামীতে নাকি কলমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ভোট করবেন। আর তিনিই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা মারার নির্দেশ দেন। 

জমি দাতা আলহাজ্ব আফাজ উদ্দিন জানান, স্কুল করার জন্য এক বিঘা জমি দিয়েছি। যাতে করে গ্রামের শিশুরা স্কুলে পড়তে পারে। আর সেই স্কুলে তালা মারছে। তাদের কি কোন অবদান আছে। তারা কিসের বলে একাজ করেছে সেটা গ্রামের মানুষ জানে। যদি এতই দয়ালু হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের নামে দু চার বিঘা জমি দিয়ে মাতব্বরি করুক। স্কুলে যে জমি দান করা হয়েছে তার  বর্তমান বাজারে জমির মূল্য প্রায় ৪০/৫০ লাখ টাকা হবে।

প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, আমিসহ চারজন শিক্ষক খেয়ে না খেয়ে প্রতিষ্ঠান টি পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু মজিবুর রহমান সভাপতি থাকা কালীন গায়ের জোরে আরো ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। এখন আমাদের মূল কাগজপত্র দেখতে চায়। আমরা কেন তাদের কে মূল কাগজ দেখাব, তারা কি প্রশাসনের লোক নাকি শিক্ষা দপ্তরের লোক। তারা মূল কাগজ দেখার নামে নষ্ট করে নতুন ভাবে সবকিছু করতে চাই বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফটোকপি দিলেও মুল কপি চাই। 

মজিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ জালিয়াত, এজন্য গ্রামবাসীর পরামর্শে স্কুলে তালা দেয়া হয়েছে। নিয়োগ জালিয়াত হলে কি স্কুলে আপনি তালা মারতে পারেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কেন তালা মারব, মেরেছে গ্রামবাসী। 

বিএনপি নেতা হযরত মাস্টারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রামে মিটিং করে তারাই তালা মেরেছে। আপনার নির্দেশে তালা মারা হয়েছে এবং আপনি কলমা এলাকার রাসেলকে সভাপতি করেছেন জানতে অস্বীকার করে বলেন আমি তালা মারতে বলিনি, নিয়োগের আসল কাগজ না দেয়ার কারনে গ্রামের লোকজন তালা মেরেছে বলে দায় সারেন।

স্কুল কমিটির সভাপতি রাসেলের ০১৭৫৬৭৯৫০৮০ মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেননি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদোসীর ০১৭১২০০৩৮৩৯ মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে তিনিও রিসিভ না করায় এসংক্রান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।