সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
logo

আবাসন সংকটে উত্তাল স্পেন, চরম বিপাকে সরকার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক published:  ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

আবাসন সংকটে উত্তাল স্পেন, চরম বিপাকে সরকার

স্পেনে আবাসন সংকট ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, উচ্ছেদের ঝুঁকি এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যয়ের প্রতিবাদে রাজধানী মাদ্রিদসহ দেশটির প্রায় ৫০টি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে সরকারের দুটি আবাসন-সংক্রান্ত ডিক্রি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার একদিন পর শনিবার (৩ অক্টোবর) এই বিক্ষোভ হয়। মাদ্রিদে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্পেনের সরকার। আবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা সাধারণ ধর্মঘটেরও দাবি তুলেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে বাড়ছে আবাসন ব্যয় ও ভাড়া। বিশেষ করে মাদ্রিদসহ বড় শহরগুলোতে সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বাসা খুঁজে পাওয়া এবং ভাড়া বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক দশকে দেশটিতে গড় ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার চুক্তি এবং স্বল্পমেয়াদি ও পর্যটনভিত্তিক ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ। সাম্প্রতিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে নিজ বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

শুক্রবার পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত প্রথম ডিক্রিতে অসচ্ছল ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, বিদ্যমান ভাড়ার চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির সীমা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব ছিল। দ্বিতীয় ডিক্রিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভাড়ার চুক্তি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে দুটি প্রস্তাবই প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন না করে কাতালান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল জুন্টস, প্রধান বিরোধী পিপলস পার্টি ও ডানপন্থি ভক্স প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করে। এর ফলে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ বড় ধরনের সংসদীয় ধাক্কা খায়।

এরপর আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলো। টেন্যান্টস ইউনিয়নের মুখপাত্র ভালেরিয়া রাকু জানিয়েছেন, সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ধর্মঘটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে পার্লামেন্টে আবাসন বিল প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সানচেজ সরকারের রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে। দেশটির গণমাধ্যমে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি