সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
logo

তানোরে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ মিশ্র প্রতিক্রিয়া


তানোর প্রতিনিধি published:  ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

তানোরে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাজশাহীর তানোরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হাতেগোনা কয়েকজন যুবদলের নেতাদের বিক্ষোভ নিয়ে উপজেলাজুড়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন কান্ডে সমালোচনাও শুরু করেছেন খোদ সিনিয়র নেতারা। কারন যদি অনিয়ম ভাবে নিয়োগ দেয়, তার প্রতিবাদে যদি মিছিল করতে হয় তাহলে বিএনপির উপজেলা ও পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা নেই কেন এমন প্রশ্ন জনগণের। গত রবিবার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ইউএনওর ছবি দিয়ে ফ্যাসিস্ট দোসর দের এজেন্ট বাস্তবায়ন করেছেন। নিয়োগের অনিয়মের ধোয়া তুলে সোমবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের মুল গেটে বিক্ষোভ মিছিল করেন যুবদল ও ছাত্র দলের হাতেগোনা নেতাকর্মীরা। তবে বিক্ষোভের সময় দপ্তরে ছিলেননা ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে প্রকাশিত নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি ও অপসারণ চেয়ে নানা স্লোগান দেয়া হয়। 

জানা গেছে, সোমবার (১০আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তানোর  উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা ইউএনওর বিরুদ্ধে দলীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার  ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর জন্য ৯৬ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯জন সুপারভাইজারের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে  উপজেলা যুবদলের যুগ্ম  আহবায়ক মাহাফুজুর রহমান রিমন বলেন, ‘নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি পক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হানুল হক বলেন,  প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় পক্ষপাতিত্ব বন্ধ না করলে এ বিষয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন,আমরা কিছুদিন আগে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তি, ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ তালিকা বাতিল না করলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোতালেব হোসেন, উপজেলা জিয়া মঞ্চ আহবায়ক রাসেল আহম্মেদ, সদস্য সচিব এ এস এম কিবরিয়া( প্রিন্স),কামারগাঁ ইউপির যুবদলের ওয়ার্ড সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সাগর প্রমুখ।

নিয়োগ বাতিলের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে নিয়োগকৃত সবাইকে আ”লীগ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সিনিয়র ও তৃনমুল নেতাকর্মীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভে মুল ভূমিকা পালন করেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কলমা ইউপির কলমা বাজার এলাকার বাসিন্দা রায়হান, চান্দুড়িয়া ইউনিয়ন ইউপির বাসিন্দা মাহফুজুর, ছাত্র দলের সদস্য সচিব কলমা ইউনিয়ন ইউপির আজিজপুর গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব, যুগ্ম আহবায়ক বিল্লি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম উল্লেখ যোগ্য। 

দলীয় সুত্র জানায়, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা যদি আ”লীগের লোকজনকে নিয়োগ দেয় তাহলে সবাই মিলে আন্দোলন করব। হাতেগোনা কয়েকজন নিয়ে আন্দোলন কেন হবে। আসলে তারা হয়তো তদবির করেছিল সেটা হয়নি। এজন্য বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ইউএনও কি এখানে রাজনীতি করগে এসেছেন। তিনি কে আ”লীগের কর্মী, কে বিএনপির কর্মী সেটাতো তিনি জানেননা। যদি তদবিরে নিয়োগ হয় তাহলে বিএনপির নেতারাই তদবির করেছেন। নিয়োগকে সবাই কে আ”লীগ বলা হয়েছে। সবাইকি কি আ”লীগের। গভীর নলকূপের নিয়োগ নিয়েও বিক্ষোভ মিছিল তালা ঝুলিয়ে দেয়াসহ নানা কিছু করা হয়েছিল। পরে দেখা যাচ্ছে নেতাদের তদবিরে সব হয়েছে। দলের কতটা মাথা, কতজন নেতা সেটাই তো অজানা। তাহলে প্রশাসনকে দায় দিয়ে লাভ কি। আবার যখন বিক্ষোভ মিছিল করছে তখন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান উপজেলা চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

তিনি জানান, আন্দোলনে সমর্থন আছে। আন্দোলন কারীরা অভিযোগে নিয়োগ পাওয়া সবাইকে আ”লীগ বলেছে জানতে চাইলে তিনি জানান এটা সঠিক না। আমি ইউএনওর সাথে কথা বলেছি, নিয়োগ যাচাই বাছাই চলছে, আ”লীগের লোকজন থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আস্বাশ পাওয়া গেছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাঈমা খান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে কারও নিয়োগে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে যোগ্য প্রার্থী নেওয়া হবে।