সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
logo

তানোরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সাসপেন্ড মিষ্টি বিতরণ


তানোর প্রতিনিধি published:  ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

তানোরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সাসপেন্ড মিষ্টি বিতরণ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ওসিএলএসডি আতিকুর রহমানকে নানা অনিয়ম ও বরাদ্দের ধান সংগ্রহ না করে অন্যত্র বিক্রি এবং কৃষকদের সাথে অসদাচরণ করার অপরাধে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন খাদ্য কর্মকর্তা পারভীন। মঙ্গলবার সকালের দিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম গেটে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং তার শাস্তির দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দেন। গুরুতর অপরাধে লঘুদন্ড দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি তুলেছেন। 

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে কামারগা খাদ্য গুদামে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের জন্য ৫৫০ মে:টন ধান বরাদ্দ দেয়া হয়। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তা আতিক প্রায় ৩৫০ মে:টন ধান সংগ্রহ করে বাকি প্রায় ২০০ মে:টন ধান নানা অজুহাতে বিক্রি করে দেন। সে অতি গোপনে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে  আ”লীগ পন্থী এক ব্যবসায়ীর কাছে বরাদ্দের ধান বিক্রি করে করেছন বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন ।

স্থানীয়  জানান, গুদামে এক ছটাক ধান দিতে পারেনি কৃষকরা । গুদাম কর্মকর্তা চারজন বড় ব্যবসায়ীর মাধমে বাহিরের নিম্নমানের ধান সংগ্রহ করেছেন। সে টন প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করেছে। যার কারনে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকরা কোনভাবেই ধান দিতে পারেনি। গুদাম কর্মকর্তার এমন অনিয়মের ঘটনায় কৃষক রা ফুঁসে উঠে। কয়েকবার তদন্তও হয়। কিন্তু তদন্ত ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। গুদাম কর্মকর্তার এমন দাপটে অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। বাধ্য হয় তাকে সাসপেন্ড করতে ।

তারা আরো জানান, গুদাম কর্মকর্তার সহায়তায় সিন্ডিকেট চক্র বাহির থেকে অল্প দামে ধান কিনে উচ্চ মুল্যে গুদামে দিয়েছে যা দিবালোকের মত পরিস্কার। সিন্ডিকেট চক্র ও গুদাম কর্মকর্তা মিলেমিশে কৃষক কার্ড সংগ্রহ করে দূর্নীতির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করে লাখলাখ টাকার কমিশন বানিজ্য করেছে। যা তালিকা ধরে তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। আতিক সাসপেন্ড হওয়ার পর অতি গোপনে পরিবারকে গত সোমবার পাঠিয়ে দিয়েছে। সে এখনো আছে। গোপনে চলে যাওয়ার চিন্তা করছে। কারন সে জনরোষের মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এসব বিষয়ে জানতে গুদাম কর্মকর্তা আতিককে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পারভীন ঘটনার সত্যতা শিকার করে জানান, বরাদ্দের ধান বিক্রি সহ নানা অনিয়মের কারনে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে।