বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
logo
সাক্ষাৎকার

‘নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের সমন্বয় জরুরি’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল


স্বদেশ বানী ডেস্ক published:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

‘নারীর ক্ষমতায়নে পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের সমন্বয় জরুরি’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে কথা বলেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। এ সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রের সমন্বয়ের কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ছালমা আক্তার শারমিন।

একজন নারীর সফলতার মূলে কোন অনুষঙ্গগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে? সেক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা কতখানি দরকার বলে আপনি মনে করেন?

ফারজানা শারমিন পুতুল: একজন নারীর সফলতার পেছনে পরিবার, শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং সামাজিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর মধ্যে পরিবারের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পরিবার যদি নারীর শিক্ষা, কর্মজীবন ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং তাকে উৎসাহ দেয়, তাহলে একজন নারী সহজেই তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। তাই নারীর সফলতার জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- সবার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

আপনার আজকের সফলতার পেছনে অবশ্যই বাবা-মায়ের ভূমিকা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

ফারজানা শারমিন পুতুল: আমার সফলতার পেছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা অনেক বেশি। তাদের সাপোর্ট ছাড়া আজকের এই অবস্থানে আসা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার বাবা পৃথিবীতে নেই। তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। আজ এখানে বসে বাবার কথা খুব মনে পড়ছে।

আপনার অবসর কীভাবে কাটে? আপনার শখ সম্পর্কে যদি বলেন।

ফারজানা শারমিন পুতুল: আসলে অবসর বলতে তেমন সময় পাওয়া যায় না। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমি নিজের জন্য এক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখি। চুলায় কফি বসিয়ে শাওয়ার নেই। শাওয়ার শেষে কফি হাতে নিয়ে বসে নিজেকে একটু সময় দেই। এই এক ঘণ্টার মধ্যে আমি সারা দিনের কাজ গুছিয়ে নেই। মন্ত্রণালয়ের অফিস শুরু করেছি কিছুদিন হলো; এর আগেও আমাকে কোর্টে যেতে হতো। আমার একটি মেয়ে আছে, সারা দিনের ব্যস্ততার পরে বাসায় এসে আমি আমার মেয়েকে সময় দেই।

এবারের মন্ত্রিসভায় আপনারা মাত্র তিনজন নারীমন্ত্রী আছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

ফারজানা শারমিন পুতুল: আমাদের নারী প্রার্থীর সংখ্যাও ছিল খুবই কম। যেহেতু অনেক বছর পর নির্বাচন হয়েছে, তাই দল থেকে নারী প্রার্থীর মনোনয়নও কম দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকা থেকে নারীদের বিজয়ী করা সম্ভব, সেই এলাকাগুলোতেই মূলত মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে আমরা সচেতনভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। সংখ্যানুপাত কম, কিন্তু আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে নারীদের পথচলা কতটা সহজ? এই পথ পাড়ি দিতে আপনি কোনও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কি?

ফারজানা শারমিন পুতুল: যেহেতু এ দেশে পরপর কয়েকবার নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই দিক থেকে চিন্তা করলে নারী রাজনীতি খুব কঠিন ছিল বলে মনে হয় না। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো মনে হতে পারে নারীরা রাজনীতিতে পিছিয়ে আছে। আমি আমার রাজনীতির পথে নারী হিসেবে তেমন বাধার সম্মুখীন হয়নি। বরং নারী-পুরুষ মিলেই সাপোর্ট করেছে। জনগণের সমর্থনে আজকে আমি এখানে বসে আছি।

অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। নারী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ফারজানা শারমিন পুতুল: পুরুষের তুলনায় রাজনীতিতে নারীর সংখ্যা কম, এটা সত্যি। দেশে অনেকদিন পর নির্বাচন হয়েছে, এবং এর ফলে নারী প্রার্থিতা কমেছে। এছাড়াও দল থেকেও নারীদের মনোনয়ন কম দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু দল থেকে নারীদের একদম মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সামনের নির্বাচনগুলোতে নারী প্রার্থী সংখ্যা আরও বাড়বে আশা করা যায়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। নারীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের জন্য কী পদক্ষেপ নেবেন?

ফারজানা শারমিন পুতুল: নারীর ক্ষমতায়ন, সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নারীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। নারীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের জন্য যেসব নীতি আছে, সেগুলোতে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যোগ করার জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়াও আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে নারী নির্যাতন রোধ এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।

নারী দিবস নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

ফারজানা শারমিন পুতুল: নারী দিবসে একটাই প্রত্যাশা, প্রতিটি দিন হোক নারীর জন্য সুন্দর, সমান সুযোগ, সাফল্য ও সম্মানের দিন।