নিজস্ব প্রতিবেদন published: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
রাজশাহীর মোহনপুরে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বুধবার এই জাতীয় নেশা পান করে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত তিন দিনের ব্যবধানে মোহনপুরের ধোপাঘাটা এলাকায় চারজনের মৃত্যু হলো। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ধোপাঘাটা এলাকার একটি মাঠে বসে স্পিরিট জাতীয় তরল ‘কট’ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মোহনপুর এলাকায় বিষাক্ত স্পিরিট পানে এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে এই নেশা জাতীয় তরলকে ‘কট’ বলে। এই নেশাজাতীয় তরল এলাকার হোমিও দোকানগুলোতে গোপনে বিক্রি হয়।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রায় অচেতন অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
‘কট’ পানে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ধোপাঘাটা বাজারের পিন্টু (৫৫) মৌপাড়া গ্রামের মৃত নাজিবুর রহমানের ছেলে শাহীন আলম (৪৬) ও পবা উপজেলার মাধাইপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হবি।
অন্যদিকে স্পিরিট বিক্রেতা বুলবুল হোসেন নিজেও বিষাক্ত এই তরল পানে গুরুতরভাবে অসুস্থ হলেও তার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারেনি পুলিশ ও স্থানীয়রা। যদিও তাকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার বিকালে তাকে আর হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আরও জানায়, বিষাক্ত তরল পান করে বুধবার জাহানাবাদ ইউনিয়নের নোনাভিটা এলাকায় লালু নামের আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই নিয়ে তিন দিনে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।
রাজশাহীর মোহনপুর থানার এসআই শিমুল হোসেন জানান, এই নেশাজাতীয় তরলটি স্পিরিটজাতীয় মাদক পণ্য। এলাকার কতিপয় অসাধু হোমিও দোকানদার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে গোপনে বিক্রি করে থাকে। এই জাতীয় তরল পান করে শুক্রবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজনের মৃত্যুর খবর পুলিশ জানতে পেরেছে। বাকি দুজনের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই। তবে এলাকার মানুষ জানিয়েছে যে, বুধবার একজন ও বৃহস্পতিবার রাতে ‘কট’ পান করে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনা জানার আগেই মৃতদের স্বজনরা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই গোপনে দাফন করেছে। এ ঘটনায় মোহনপুর থানায় দুজনের বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে গত ৯ জানুয়ারি মোহনপুরের একই এলাকায় স্পিরিট বা ‘কট’ পানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।