আন্তর্জাতিক ডেস্ক published: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে আরও এক বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্ধ্র প্রদেশের প্রকাশম জেলার কোমারোলু এলাকায় গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি এলাকার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সি মঞ্জুর আলম লস্করকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছে।
মঞ্জুর গত প্রায় এক দশক ধরে ওই এলাকায় জরির কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করলেও স্থানীয় কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে প্রচার করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছিল এবং সর্বশেষ তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত মঞ্জুরের পরিবারের বর্ণনায় এই ঘটনার পেছনে এক ভয়াবহ অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির চিত্র উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মঞ্জুরের স্ত্রীকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বামীর জীবনের ভয়ে পরিবার ৬ হাজার রুপি সংগ্রহ করে অনলাইনে পাঠালেও শেষ রক্ষা হয়নি; বুধবার রাতে জানানো হয় মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত মঞ্জুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি পশ্চিমবঙ্গের উস্থি এলাকার একজন স্থানীয় তৃণমূল নেতা, এই হত্যাকাণ্ডকে একটি পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ভাইকে প্রথমে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে অপহরণ করা হয় এবং পরে মুক্তিপণ আদায়ের পর তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশে টিডিপি–জেএসপি–বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে যেন তারা অন্ধ্র প্রদেশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন উত্তাল উস্থি এলাকা।
অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে আরও এক বাঙালি শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আলমগীর মণ্ডল নামে ২৯ বছর বয়সি এক যুবক আটদিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হায়দরাবাদে কাজের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠেছিলেন। রেলওয়ে পুলিশ একে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রাথমিক অনুমান করলেও আলমগীরের পরিবার বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে।
ভারতে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশি সন্দেহে একের পর এক বাঙালি মুসলিম শ্রমিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।