সারোয়ার হোসেন, তানোর published: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:০৫ এএম

রাজশাহীর তানোরে দিগন্ত মাঠজুড়ে আলুর সমারোহ। চারিদিকে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পর করছেন কৃষকরা। যেন দম ফেলার সময় নেই চাষিদের মাঝে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে আলু রোপণের কাজ। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে,আলু রোপণের জন্য মাঠের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটাছুটি করছেন আলু চাষিরা। জানা গেছে, এবছর আকাশের আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে আলু রোপণের সময় অনেকটা বিলম্ব হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা।
আবার কারো কারো জমিতে আগাম লাগানো আলুর গাছ গজিয়ে সবুজ পাতা বের হতে শুরু হয়েছে। ফলে একপ্রকার আগাম লাগানো আলু চাষিদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির ঝিলিক। কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আলু চাষিদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে সারের সংকট। আলু রোপণের সঠিক সময়ে পটাশ ও ডিএপি সার না পাওয়ায় অনেকটা বিলম্ব হচ্ছে কৃষকের আলু রোপণ করা।
অনেক কৃষক সার না পেয়ে কমিয়েছেন আলু চাষ করা। ফলে উপজেলা জুড়ে গতবারের চাইতে তুলনামূলক অনেক কম জমিতে আলু চাষ হচ্ছে এবার। আর এই আলু চাষ কম হওয়ার একটাই কারণ হচ্ছে সার না পাওয়া।
উপজেলার তালন্দ ইউপির নারায়নপুর গ্রামের প্রশিদ্ধ আলু চাষি মইফুল ইসলাম বলেন, এবার শুধু সার সংকটের জন্য বেশি আলু চাষ করতে পারিনি। অথচ গত মৌসুমে সার সংকট না থাকায় প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। তানোর পৌর এলাকার গুবির পাড়া গ্রামের আলু চাষি কিতাব আলী জানান, গতবছর তিনি ১৫বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবার সঠিক সময়ে সার না পাওয়ায় তিনি মাত্র ১০বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলায় আলু চাষের লক্ষমাত্রা ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি। গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম জমি লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, প্রথম প্রথম পটাশ সার সংকট ছিলো। কিন্তু বর্তমানে কোন সংকট নেই। আশা করা যাচ্ছে আকাশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আলু চাষে লাভবান হবে কৃষকরা।