বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
logo
পূজা শেষে সিঁদুর খেলা আর মিষ্টি বিতরণ

মায়ের আশীর্বাদ নিতে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়, র্বিসজন শেষে নামে প্রাপ্তির অশ্রুধারা


বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি published:  ০২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম

মায়ের আশীর্বাদ নিতে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়, র্বিসজন শেষে নামে প্রাপ্তির অশ্রুধারা

বৃহসপতিবার (০২-১০-২০২৫) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে  সনাতন ধর্মীদের শারদীয় দুর্গোৎসব । সন্ধ্যার আগে উপজেলার নদীর ঘাট ও পুকুরপাড় এলাকায় বির্সজন দেওযা হয়। এর আগ পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বজনীন এই উৎসবকে সহযোগিতা করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।

সনাতনীরা জানান, ‘আমাদের দুঃখ নাশ করে কৈলাসে নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন মা।’ বিসর্জন শেষে ফাঁকা মণ্ডপ দেখে বুকের ভেতর থেকে উগরে আসা কষ্টকে হজম করার নামই সংযম। হাসিমুখে বলেন, ‘আসছে বছর আবার হবে।’

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ষষ্ঠী থেকে দশমী—এই পাঁচ দিনের জন্য কৈলাস থেকে মর্ত্যে বাবার বাড়ি আসেন উমা তথা মা দুর্গা। সঙ্গে আসেন গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিক। ৮০ বছরের বৃদ্ধাও তাঁর মাকে ফিরে পান এই পাঁচটি দিন। চোখজুড়ে নামে প্রাপ্তির অশ্রুধারা।

পূজা শেষে সিঁদুর খেলা আর মিষ্টি বিতরণ আর মায়ের আশীর্বাদ নিতে ছিল মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। যাঁর যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরে মাকে স্বাগত জানাতে চেষ্টা করেন তারা।  বির্সজনের আগ পর্যন্ত নির্মল এক বিনোদন পূজার রাতটাকে করে তোলে আরও আনন্দময়।  ছোট ছোট দলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে ঘুরে দুর্গা দেবীর প্রতিমা দর্শন করে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। সব আয়োজন  শেষে চারদিকে ছিল বিজয়ার সূর।

পূঁজায় এবারও নিজ গ্রাম বাঘা পৌরসভার নারায়নপুরে এসছিলেন কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত।  কথা হলে তিনি বলেন,এবার জাঁকজমক ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।

পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি  সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, নির্বিঘ্নে পুজা বির্সজন করতে পেরে আমরা খুশি।

অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আছাদুজ্জামান বলেন, সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল মন্ডপগুলো। পুলিশ-আনসার সদস্যর পাশাপাশি, বিজিবি, পুলিশের বিশেষায়িত টিম নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। নৌ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরাসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্বে ছিলেন । উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন শেষ করেছি। এবছর উপজেলায় ৪৬টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।