স্বদেশ বানী ডেস্ক published: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৯:০৬ পিএম

বৃক্ষরোপণ করে রাজশাহীর মোল্লাপাড়ায় পাহাড়িয়াদের মহল্লা থেকে তাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল ও যুবদল। এছাড়া রাস্তায় মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট, রাজশাহী। শনিবার বিকেলে আলাদা দুটি কর্মসূচি পালিত হয়।
ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পাহাড়িয়াদের মহল্লায় গিয়ে প্রতিবাদ হিসেবে ৫০টি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তারা পাহাড়িয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানেই একটি মানববন্ধন করেন।
এ সময় মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনারুল ইসলাম, কাশিয়াডাঙ্গা থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার হোসেন, রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম রাতুল, কাশিয়াডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আনারুল ইসলাম বলেন, তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নির্দেশনায় এখানে এসেছেন। পেশিশক্তি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ৫৩ বছর ধরে বাস করা পরিবারগুলোকে তারা উচ্ছেদ হতে দেবেন না। বিএনপি পরিবার তাদের পাশে থাকবে।
এদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোট, রাজশাহী জেলার উদ্যোগে বিকেলে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তব্য রাখেন- বাসদের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক আলফাজ হোসেন, সদস্য সচিব শামসুল আবেদীন ডন, সিপিবির জেলার সভাপতি জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মন্ডল, মহানগরের সভাপতি আইয়ুব হোসেন কাইয়ুম, সদস্য সেলিনা বানু, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম প্রমুখ।
তারা বলেন, ওই জমিতে ৫৩ বছর ধরে মালপাহাড়িয়া আদিবাসীরা বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি কিছু ভূমিদস্যু জাল দলিল তৈরি করে তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে,য া খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় আদিবাসীরা আমাদের ভাই। তারা এ মাটির সন্তান। তারা সেখানে থাকবে। তাদের ওপর জুলুম হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এর আগে সকালে একই স্থানে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। এতে সংহতি জানায় দিনের আলো হিজড়া সংঘ, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও সবুজ সংহতি। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরাও অংশ নেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের পর ছয়টি পাহাড়িয়া পরিবার বাড়ি করার সুযোগ পায়। তিন প্রজন্মে এখন বাড়ি হয়েছে ১৬টি। এত দিন পর সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের এই ১৬ কাঠা জমির মালিকানা দাবি করছেন।
তিনি ১৬ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে উচ্ছেদের আয়োজন করেছিলেন। তিনটি পরিবার কয়েক দিন আগেই বাড়ি ছাড়ে। শুক্রবার সেখানে খাসি কেটে খাইয়ে-দাইয়ে তাদের ‘বিদায়ের’ আয়োজন ছিল। রোববার ঘর ছাড়ত বাকিরা। এ নিয়ে গত বুধবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভেস্তে যায় খাসি ভোজের আয়োজন।
পরদিন বৃহস্পতিবারই পুলিশ-প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। শুক্রবার সকালে ওই মহল্লায় যান আদিবাসী সংগঠনের নেতা-কর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মীরা। সেখানে তাঁরা মানববন্ধন করেন। খোঁজ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। লন্ডন থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ফোন করে বিকেলে ওই মহল্লায় পাঠান।