বাংলাদেশ, রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
logo

রাজশাহীর আকাশে বিদ্যুতের ঝড়


নিজস্ব প্রতিবেদন published:  ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:২৫ এএম

রাজশাহীর আকাশে বিদ্যুতের ঝড়

মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ চমকানোর ফলে রাজশাহীর আকাশ হয়ে ওঠে আলোকিত। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে। 

রাজশাহীর আকাশ এক ভিন্নরূপ দেখিয়েছে। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে আকাশে মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ চমকেছে। সেকেন্ডে কয়েকবার পর্যন্ত একই স্থানে এমন বিদ্যুৎ চমকানোর ফলে মাঝরাতের আকাশ হয়ে উঠেছিল সন্ধ্যার মতো। আকাশের এমন রূপ সচরাচর দেখা যায় না।

মাঝরাতে এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই ছাদে গিয়ে ভিডিও করে রেখেছেন, ছবি তুলেছেন। সেসব শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ছবি ও ভিডিও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যে যার মতো করে এমন দৃশ্যের ব্যাখা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশে যা ঘটেছে, সেটা মূলত একটি বৈদ্যুতিক ঝড়ের প্রাকৃতিক একটি ঘটনা। আর এর জন্য দায়ী নির্দিষ্ট একটি এলাকায় আবহাওয়ার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজীব খান উত্তরভূমিকে জানান, কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর তাপমাত্রা বেশি ছিল। সবশেষ সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৃদু তাপপ্রবাহ। এর আগের দুই দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে। সময় যত গড়ায় ততই এর মাত্রা বাড়তে থাকে। মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে মুহুর্মুহু। রাত ৩টা পর্যন্ত এমন অবস্থা ছিল। এর আগে রাত ১টা ১৫ মিনিটে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টি চলে ভোর ৫টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

প্রতি সেকেন্ডে কয়েকবার পর্যন্ত এমন বিদ্যুৎ চমকানোর বিষয়টি খেয়াল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েল ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দন রায়। তিনি বলেন, ‘এটা খেয়াল করেছিলাম। রাজশাহীর আকাশে মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ চমকানো দেড়টা থেকে শুরু হয়। চার্জ মেঘ থেকে মেঘে ট্রান্সফার হচ্ছিল খুবই বেশি। থামছিলই না। তার আগে এটা ভারতীয় সীমান্তের দিকে হচ্ছিল। শব্দ পাচ্ছিলাম না, কিন্তু আলোটা দেখছিলাম। পরে এখানেও শুরু হয়।’

অধ্যাপক চন্দন রায় উত্তরভূমির কাছে এই ঘটনার একটি ব্যাখাও দিয়েছেন। তার সহজ অর্থ হলো- আকাশের এই ঘটনা স্থানীয় বৈদ্যুতিক ঝড়, যা উচ্চ তাপমাত্রা এবং চার্জের দ্রুত স্থানান্তরের কারণে ঘটেছে। আর এর জন্য দায়ী স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া।

অধ্যাপক চন্দন রায় উত্তরভূমিকে বলেন, ‘রাতে কিন্তু বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এখন আমাদের এখানে বর্ষাকালীন বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। এখন বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প এসে হিমলালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পরিচালন বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এটা স্থানীয়ভাবে হয়ে গেছে। তার মানে এখানে তাপমাত্রা বেশি ছিল এবং এই কারণে অধিক পরিমাণে জলীয় বাষ্প আকাশে উঠে গেছে। এর সঙ্গে ডাস্টও ছিল, তা মেঘ তৈরিতে সহায়তা করেছে। মেঘটা মাশরুমের মতো আকৃতি নিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে খুব অল্প জায়গায় প্রচুর পরিমাণে চার্জ তৈরি হয়েছিল। এই চার্জ মেঘ থেকে মেঘে, মেঘ থেকে ভূমিতে কিংবা ভূমি থেকেও মেঘে স্থানান্তর হতে পারে। রাতের ঘটনাটা মেঘ থেকে মেঘে হয়েছে। ফলে বজ্রপাত হয়নি, কিন্তু বিদ্যুৎ চমকেছে। এটা খুব সাধারণ বিষয় না, আবার দুর্লভও না। তবে মুহুর্মুহু হওয়ার কারণে এটা নিয়ে এত আলোচনা।’