রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিকে ঘিরে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভা থেকে ওয়াকআউট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাকসু প্রার্থী ও সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রজোট হঠাৎ করেই বৈঠক বর্জন করে বের হয়ে যায়।
সভায় নির্বাচন কমিশন জানায়, পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বরেই ভোট গ্রহণ হবে। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবার জানানো হবে।
ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ছাত্রদল অভিযোগ করে, সভায় আলোচনার অনুকূল পরিবেশ ছিল না। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট জানায়, ৫ অগাস্টের মশাল মিছিলে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আলোচনায় অংশগ্রহণ মেনে নেওয়া যায় না, তাই তারা সভা বর্জন করেছে।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমরা আলোচনায় এসে দেখি, তারা বাংলাদেশপন্থি কমিশনার নন, পাকিস্তানপন্থি কমিশনার। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর জুলাই-আগস্টের চেতনা এই প্রশাসন ধারণ করে না। তাই সভা বর্জন করে বের হয়ে এসেছি।”
গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের সংগঠক ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “৫ অগাস্ট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মশাল মিছিলে ছাত্রশিবির সমর্থিত একটি গোষ্ঠী হামলা চালায়। হামলায় চিহ্নিত ব্যক্তিরা আজ এখানে বক্তব্য দিচ্ছে এবং প্রশাসন তা মেনে নিচ্ছে। আমরা এমন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একই হাউজ শেয়ার করতে পারি না, তাই সভা বর্জন করেছি।”
এর আগে সকাল থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে ছাত্রদল। পরে সেখানে ছাত্রশিবির, সাবেক সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়।
পরে বিকালে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ছাত্রদল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালেও শিবির জানায়, অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নির্বাচন পূর্বনির্ধারিত তারিখেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
মতবিনিময় সভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “ভোটের তারিখ ঠিক থাকবে। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কমিশন আগামীকাল সভায় সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত মনোনয়নপত্র বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।