অনলাইন সংস্করণ published: ২৬ জুলাই, ২০২৫, ০২:১৪ এএম

১০ বছর বয়স—যখন খেলাধুলা, হাসি-আনন্দ আর স্বপ্ন দেখার সময়, ঠিক তখনই থেমে গেল আয়মানের জীবন। ছোট্ট এই শিশু স্বপ্ন দেখত বড় হয়ে হবে একজন ডাক্তার, মা-বাবার মুখে হাসি ফুটাবে।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ পেল না। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন বিধ্বস্ত হয় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। সোমবার দুপুরে ক্লাসে বসে পড়াশোনা করছিল আয়মান, তখনই আগুন ছুঁয়ে এল তার উপর।
শিশুটির শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। তিনদিন ধরে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চললেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আয়মান।
বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহটি ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম জানাজা শেষে আয়মানের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ৫১ জন। এর মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, রোগীদের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাদের আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চীন ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসায় অংশ নিচ্ছেন। উন্নতি হওয়ায় ১৫ জনকে শিগগিরই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতাল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিমানবাহিনীর টিম দায়িত্বে রয়েছে। বার্ন ইউনিট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কারও ব্লাড বা স্কিন ডোনেশনের প্রয়োজন নেই। সরকার আহতদের চিকিৎসার পুরো খরচ বহন করবে।